আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির বাঁধন স্টাফ রিপোর্টারঃ এস এম টিভি রাজশাহী বিভাগ
শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিলে প্রতিবছরই বাড়ছে সূর্যমূখী ফুলের চাষ। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এতে ঝুঁকছেন। এ বছরও ফুলে ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সূর্যমুখীর বাগানে আসছেন সৌন্দর্যপিপাসুরা। জেলা কৃষি অফিস জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, তাড়াশ, কাজীপুর, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদর, বেলকুচি, উল্লাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ফুলের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে একটি করে ফুল আসে। বীজ বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে প্রায় তিনমাস সময় লাগে। হেক্টর প্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন হয়।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সূর্যমুখী চাষ করে শুরু থেকেই সফলতার মুখ দেখছেন এ জেলার কৃষকরা। যদি কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে তারা সূর্যমুখী চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন।সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউপির ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, 'গত দুইবছর ধরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছি। এবারও ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। আমার সূর্যমুখী ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে গত বছরের চেয়ে এবার বেশি লাভ হবে বলে আশা করছি।'সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের ইউসুফ আলী বলেন, 'যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। আমার ৪ বিঘা জমিতে এবার সূর্যমূখী ফুল চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছি।'কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আগে ধান, গম ও ভুট্টার চাষ করতাম। খুব একটা লাভ হয়নি। গত ৫ বছর ধরে ফুল চাষ করছি। ধান গমের তুলনায় এতে বেশি লাভ হয়। আগামীতেও ফুলের চাষ করব আশা করছি। সূর্যমুখী ফুলের খুব চাহিদা, ফলনও ভালো হয়।সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর মো. আহসান শহীদ সরকার বলেন, 'এ জেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। এবছর সূর্যমুখী ফুলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২৭০ হেক্টরে। কৃষক এবার ভালো ফলনের আশা করছেন। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে হাঁস মুরগির খাবার পাওয়া যায়, পাশাপাশি তেলের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা লিনোলিক এসিড হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখে। সূর্যমুখী ফুলের বাগান যাতে আরও বৃদ্ধি পায়, সে জন্য উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগ থেকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।’
0 মন্তব্যসমূহ