২০০৬ সালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর ফেসবুক দ্রুত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে বন্ধু খোঁজা, ছবি ও ভাবনা শেয়ার করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।ফেসবুকের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এর ধারাবাহিক উদ্ভাবন। নিউজ ফিড, লাইক বাটন, কমেন্ট, শেয়ার অপশন ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগকে আরও সহজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, লাইভ ভিডিও ও মার্কেটপ্লেস যুক্ত হওয়ায় এটি ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও বিপণনে ফেসবুক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান সবাই ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে। একই সঙ্গে রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনেও ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন দেশে নির্বাচন, গণআন্দোলন ও জনমত গঠনে এই মাধ্যমটি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
তবে এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ফেসবুককে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ভুয়া খবরের বিস্তার এবং ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে ফেসবুক কনটেন্ট নীতিমালা জোরদার, তথ্য যাচাই এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।২০২১ সালে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান নতুন নাম নেয় মেটা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের ভার্চুয়াল জগৎ, মেটাভার্স, ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার ঘোষণা দেয়।ফেসবুকের জন্মদিনে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্যোগ কীভাবে বিশ্বব্যাপী মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকও বদলেছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গী হয়েছে কোটি কোটি মানুষ।

0 মন্তব্যসমূহ