লোড হচ্ছে...

ভালোবাসার আরেক নাম প্রিয় আশিক জন্মদিনে জীবনসঙ্গীর প্রতি স্ত্রী তানিয়া ইশতিয়াক খানের হৃদয়ছোঁয়া নিবেদন।

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর।
বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রিয় মানুষটিকে নতুন করে অনুভব করার, একসঙ্গে পথচলার স্মৃতি, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে ফিরে দেখার এক বিশেষ উপলক্ষ। এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তে নিজের জীবনসঙ্গী আশিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে হৃদয়স্পর্শী একটি বার্তা দিয়েছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। তিনি লিখেছেন, ২০০৬ সালে প্রথম পরিচয়ের মধ্য দিয়ে যে সম্পর্কের সূচনা হয়, সময়ের পরিক্রমায় তা গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসায় পরিণত হয়। ২০১৩ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর জীবনের নানা ঝড়-ঝাপটা, সুখ-দুঃখ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়েছে।

তানিয়ার ভাষায়, চার সদস্যের তাদের সংসার খুবই সাধারণ। বিলাসিতা বা আড়ম্বরের চেয়ে পরিবারের হাসি, ছোট ছোট আনন্দ, জন্মদিনের ছোট্ট আয়োজন কিংবা ঈদের ছুটিতে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জীবনসঙ্গী আশিককে তিনি শুধু একজন স্বামী নয়, একজন স্বপ্ন নির্মাতা হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তার মতে, আশিকের অনুপ্রেরণায় হাজারো নারী আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের সম্ভাবনাকে চিনতে শিখেছেন। ‘বিজয়ী’ প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে ২০০৪ সাল থেকে পরিবেশ রক্ষায় তার নিরলস কাজ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


তবে সমাজের কাছে পরিচিত এই মানুষটির আরেকটি পরিচয়ও তুলে ধরেছেন তানিয়া। তিনি বলেন, কর্মব্যস্ততার মাঝেও আশিক পরিবারের প্রতিটি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। নিজের সাফল্যের পেছনে স্বামীর নীরব ত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অটুট বিশ্বাসের অবদানই সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের অতীতের কথা স্মরণ করে তানিয়া লিখেছেন, একসময় তিনি ছিলেন অগোছালো ও আত্মবিশ্বাসহীন। কিন্তু আশিকের ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিরন্তর উৎসাহ তাকে আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। পৃথিবীর কাছে তিনি যতই পরিণত মানুষ হিসেবে পরিচিত হোন না কেন, আশিকের কাছে তিনি আজও সেই অভিমানী, অগোছালো মেয়েটিই রয়ে গেছেন আর সেই পরিচয়ই তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশিক কখনো চাননি তিনি শুধু ‘কারও স্ত্রী’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকুন। বরং সবসময় নিজের পরিচয়, নিজের স্বপ্ন ও নিজের সাফল্য গড়ে তুলতে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। নিজের অনেক ইচ্ছা ও স্বপ্ন আড়ালে রেখে স্ত্রীর সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। তানিয়ার ভাষায়, এই মানসিক উচ্চতা ও উদারতা সত্যিই বিরল। জীবনের প্রতিটি সংকটে আশিকের একটি বাক্য “আমি তো আছি” তাকে সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তানিয়া।


জন্মদিন উপলক্ষে তিনি লেখেন, দামি কোনো উপহার হয়তো তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়; তবে হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসাই হোক তার জীবনসঙ্গীর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার বার্তার শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে আশিকের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে তানিয়া বলেন, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের এই বন্ধন যেন সময়ের প্রতিটি পরীক্ষায় আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। শেষে তিনি লেখেন “শুভ জন্মদিন, আশিক। তুমি জন্মেছিলে বলেই আমার জীবন শুধু একটি সংসারের গল্প নয়; এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন, সাহস, সম্মান ও ভালোবাসায় লেখা এক অনন্য জীবনকাব্য।”


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ