লোড হচ্ছে...

পরানগঞ্জে সরকারি জমি গিলে খাচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান সোলাইমান!"​"আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা নেই।

 


মোঃ সাখাওয়াত হোসেন স্টাফ রিপোর্টার Smtv Media ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের পরানগঞ্জ বাজার মোড়ে সরকারি জমি দখল করে কোটি টাকার বাণিজ্য ও পুকুর ভরাটের মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক চেয়ারম্যান সোলাইমান কবির মাস্টার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১নং খতিয়ানের সরকারি সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন।ঘটনার প্রেক্ষাপট: ৩০ শতাংশের রায়ে ৮৬ শতাংশ দখল অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত মোট ৮৬ শতাংশ জমির মধ্যে ৩০ শতাংশের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন সোলাইমান কবির মাস্টার। আদালত ওই ৩০ শতাংশের পক্ষে রায় দিলেও, তিনি কৌশলে পুরো ৮৬ শতাংশ জমিই নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে বাজার সংলগ্ন এই অতি মূল্যবান জমি তিনি প্রতি শতাংশ প্রায় ২২ লক্ষ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য ও রাতভর পুকুর ভরাট দখলকৃত জমির একাংশে একটি পুকুর রয়েছে, যা রাতের আধারে বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। সোলাইমান কবিরের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম নামে ওই জমির মধ্যে ৭.৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত বিষয়টি আমলে নেয়। বিবাদমান জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এবং পুকুর ভরাট বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও তোয়াক্কা করছেন না সাবেক এই চেয়ারম্যান। ক্ষমতার দাপটে আদালতের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্মাণ ও ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা: নায়েব যখন নীরব দর্শক এই বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তিনি ফোনে জানান:আমি সব জানি, সোলাইমান কবিরের সাথে আমার কথা হয়েছে। সরকারি জায়গা ভরাট করলে সমস্যা নেই, ভরাট শেষ হলে দেখা যাবে।"ভূমি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এবং দখলদারের পক্ষাবলম্বন মূলত অনিয়মকে বৈধতা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্টদের 'ম্যানেজ' করেই এই দখল প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক ভোলবদল ও টাকার প্রভাব স্থানীয়দের অভিযোগ, সোলাইমান কবির মাস্টার বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তবে পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, টাকার জোরে তিনি সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করছেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। জনগণের দাবি সরকারি সম্পদ রক্ষায় এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে উর্ধ্বতন জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পরানগঞ্জবাসী। অন্যথায় বাজারের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি চিরতরে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ