রাজশাহী প্রতিনিধি:রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং বিশ্বমঞ্চে ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে রাজশাহীর পরিচিতিকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হবে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন।আয়োজকদের দাবি, রাজশাহীতে এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নতুন ও পুরোনো রানারদের অংশগ্রহণে ১,৩০০ প্লাস রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এতে নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।বৃহৎ এ আয়োজনকে সফল, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে প্রায় ১৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও সাপোর্টার নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি ও ওরিয়েন্টেশন সভা। সম্প্রতি শিশু একাডেমি, রাজশাহী-তে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব, করণীয়, নিরাপত্তা, রুট ব্যবস্থাপনা এবং অংশগ্রহণকারীদের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভায় বিডি ক্লিন, রাজশাহী কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ, রেড ক্রিসেন্ট, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, ইচ্ছা থেকে শুরু, RCY BDRCS, Run for Silk City, আমার বাংলা তরুণ সংঘ, ছোট স্বপ্ন—বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, লিও ক্লাব, এসো গড়িসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক ও সাপোর্টাররা অংশ নেন।১৪০ স্বেচ্ছাসেবকের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বম্যারাথন চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা, রুট ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পানীয় জল সরবরাহ, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।আয়োজকরা বলেন, বড় পরিসরের একটি দৌড় আয়োজনকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আয়োজনের সফলতার অন্যতম প্রধান শক্তি।রান ফর সিল্ক সিটি’ শুধু দৌড় নয়, রেশম ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগসিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির প্রধান উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল বলেন, “রাজশাহী শুধু একটি শহরের নাম নয়; এটি আমাদের গর্ব, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শহর দীর্ঘদিন ধরে রেশম শিল্পের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। ‘রান ফর সিল্ক সিটি’ শুধু একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়—এর মাধ্যমে আমরা রাজশাহীর হারিয়ে যেতে বসা রেশম ঐতিহ্যকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রাজশাহীর সিল্ককে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা এবং এর গৌরবময় পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তভাবে তুলে ধরা। এই আয়োজনের সঙ্গে প্রায় ১৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সফল ও নিরাপদ আয়োজনের পেছনে স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রম ও আন্তরিকতা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবককে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।”সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটি, রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি বলেন, “আপনারাই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান শক্তি। ২৬ সেপ্টেম্বরের ‘রান ফর সিল্ক সিটি’ সফল করতে আপনাদের দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একজন রানার যেন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে দৌড় শেষ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”তিনি বলেন, “রাজশাহীতে এবার প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন ও পুরোনো রানাররা এতে অংশগ্রহণ করছেন। ইতোমধ্যে ১,৩০০ প্লাস রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক—সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন।”তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এই দৌড়ের মাধ্যমে রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, রেশম শিল্প এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। ‘সিল্ক সিটি’ শুধু একটি উপাধি নয়—এটি রাজশাহীর পরিচয় ও গর্ব। সেই পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”নেতৃত্বে আয়োজক কমিটিপ্রস্তুতি ও ওরিয়েন্টেশন সভায় সভাপতিত্ব করেন মোসা: রিক্তা পারভিন, উপদেষ্টা, সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটি, রাজশাহী। সভা সঞ্চালনা করেন মোঃ জাকির হোসেনএ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির উপদেষ্টা প্রফেসর মোঃ জুয়েল কিবরিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সন্দীপ মল্লিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ বাবু, দপ্তর সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আল নোমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক ও সাপোর্টাররা।ঐক্যবদ্ধভাবে সফল করার প্রত্যয়সভায় উপস্থিত সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবকরা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের আয়োজন সফল, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বক্তারা বলেন, রাজশাহীর রেশম ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ দৌড় প্রতিযোগিতা তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠন এবং রাজশাহীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’ শুধু একটি ম্যারাথন হিসেবে নয়, বরং রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রেশম শিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে মানুষের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।২৬ সেপ্টেম্বর—দেখা হবে সিল্কসিটির রাস্তায়।

0 মন্তব্যসমূহ