২০২০ সালের সেই কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস, যা মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি, তা আবারও দেখা দিচ্ছে
পার্শবর্তি দেশ ভারতে করোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে এয়ারপোর্টসহ সরকারি জায়গাগুলোতে চলছে করোনা চেক। বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো ২০২০ সালের সেই ভয়াবহ কোভিড-১৯ আবারও ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি তখনকার মৃত্যু আর আতঙ্কের দিনগুলো। আর সেই স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে বর্তমান সংক্রমণের আশঙ্কা। ভারতে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রতিদিন নতুন করে শতাধিক রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ৭ দিনে গড়ে প্রতিদিন ২০–৪৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। যদিও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে, তবে কর্তৃপক্ষ এটি হালকাভাবে নিতে নারাজ।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে শুরু হয়েছে বাড়তি নজরদারি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এয়ারপোর্টে বিদেশফেরত যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও উপসর্গ যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক করোনা পরীক্ষাও করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল ও বড় বড় বিপণিবিতানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসা কেন্দ্র ও বিমানবন্দরে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমরা আতঙ্ক সৃষ্টি করছি না, বরং আগাম সতর্কতা নিচ্ছি। পার্শ্ববর্তী দেশে সংক্রমণ বাড়ায় আমাদেরও প্রস্তুত থাকা দরকার। "বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তবর্তী জেলা ও উপজেলাগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদের জন্য আলাদা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের অধিকাংশই হালকা উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভ্যাকসিন না নেওয়া বা আগেই অসুস্থ এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. তাহমিনা খন্দকার বলেন, “জনগণের মধ্যে অনেকেই ভাবছেন করোনা শেষ। কিন্তু ভাইরাস এখনো বিলীন হয়নি। এটি মাঝে মাঝে ফিরে আসতেই পারে। আমাদের দায়িত্ব হলো স্বাস্থ্যবিধি মানা।”সরকার আবারও সবাইকে টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, বিশেষ করে যাদের বয়স ৬০ বছরের ওপরে বা যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে। এদিকে স্কুল, কলেজ বা অফিস এখনও খোলা থাকলেও, প্রয়োজনে দ্রুত অনলাইন ক্লাস বা দূরপাল্লার বৈঠকের নির্দেশনা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে জরুরি।


0 মন্তব্যসমূহ