ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে যে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেটা মূলত চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৭৫ জন নিহত হন। ছবি: সংগৃহীতগত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওইদিন ইরানের দক্ষিণে মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা চালানো হয়। এতে ১৭০-এর বেশি মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী। স্কুলে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় এটি এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বেসামরিক ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও কেউ এখনও দায়িত্ব স্বীকার করেনি নিউইয়র্ক টাইমসের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের মধ্যে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক পোস্ট এবং যাচাই-বাছাই করা ভিডিও রয়েছে। এগুলোতে দেখা গেছে, হামলায় স্কুল ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সস্তা ড্রোন বনাম দামি ক্ষেপণাস্ত্র: ইরান যুদ্ধে জয়ের চাবিকাঠি এখন খরচের হিসাব
ইরানি স্বাস্থ্যকর্তারা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় সাজারেহ তায়্যেবাহ ইলেমেনটারি স্কুলে শিক্ষার্থী ও স্টাফ মিলিয়ে মোট ১৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা হামলার বিষয়টি নিশ্চিতও করেননি আবার অস্বীকারও করেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত বুধবার (৪ মার্চ) জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, হামলার দিনে ওই এলাকার ওপর মার্কিন বিমান অভিযান পরিচালনা করছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে, অন্তত ছয়টি ভবন লক্ষ্য করে একাধিক সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে চারটি নৌঘাঁটিতে অবস্থিত ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য দুটি ভবন, যার মধ্যে স্কুলও রয়েছে, সরাসরি ছাদের উপর আঘাত পায়, যা সুনির্দিষ্ট বায়ু হামলার ধরনকে নিশ্চিত করছে।
নতুন স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা তথ্য অনুযায়ী, এই হামলা সম্ভবত নিকটবর্তী একটি নৌবাহিনী ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো বৃহত্তর অভিযানের অংশ ছিল।জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও প্রাক্তন ইউএস এয়ার ফোর্স কর্মকর্তা ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট জানিয়েছেন, সব আঘাত ‘সতর্ক ও সুনির্দিষ্ট’ ছিল। তিনি বলেন, সবচেয়ে সম্ভবত কারণ হতে পারে ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, যেখানে বেসামরিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু স্যাটেলাইটে স্পষ্ট দেখা যায় স্কুলের স্পোর্টস মাঠ ও খেলার এলাকা, তাই ভুলে হামলার সম্ভাবনা কম। কিছু অনলাইন তত্ত্বে বলা হয়েছিল, ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ভুল করে হামলা চালিয়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমস এবং বিশ্লেষকরা তা অস্বীকার করেছেন, কারণ একাধিক ভবনকে এত সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করা কোনো ত্রুটিপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বারা সম্ভব নয়।
0 মন্তব্যসমূহ