মোঃবুলবুল ইসলাম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ Smtv Media কুড়িগ্রাম।
দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে আলোচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক শরীফ হাসানকে কুড়িগ্রামে পদায়ন করা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ তিনি কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম কার্যালয়ে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) হিসেবে যোগ দেন। তবে তার যোগদানকে ঘিরে জেলা জুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ শাখায় কর্মরত অবস্থায় শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে উচ্চপরিমাণ ঋণ বিতরণ, সিসি ঋণের বিপরীতে উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে প্রথমে ওএসডি করা হয়। পরে গত ১৬ মার্চ তাকে কুড়িগ্রাম ডিজিএম কার্যালয়ে বদলি করা হয়।কুড়িগ্রামে তার যোগদানের পরপরই গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুরোনো প্রতিবেদন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাকে জেলা সদর থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম গ্রীন ভিলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম রশীদ আলী বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তার কুড়িগ্রামে পদায়ন অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। আমরা তার দ্রুত অপসারণ চাই।”জেলার কয়েকজন সমাজকর্মী ও ব্যাংক গ্রাহক জানান, কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এখানে কোনো দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি তারা মেনে নিতে পারছেন না। দ্রুত তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীফ হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম মো. মামুনুর রশিদ হেলালী বলেন, “শরীফ হাসান নামে একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি যোগদান করেছেন। তার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে মন্তব্য করা সম্ভব হবে।” এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।


0 মন্তব্যসমূহ