মোঃ হাসান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঈশ্বরদী Smtv Media ঈশ্বরদী।
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব মোড়ে বড় ভাইদের সাথে চায়ের আড্ডায় বসেছি। আড্ডার মাঝেই পরিচয় হলো মো. মাসুদ রানা মানিক নামে এক ব্যক্তির সাথে। কথার এক পর্যায়ে তিনি বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিলেন—তিনি ঈশ্বরদীর একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার 'বিশাল মাপের' সাংবাদিক। তার পদবি নাকি 'ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি'। তার ব্যক্তিত্ব এবং কথা বলার ধরন দেখে কৌতুহল জাগল। বাহ্যিক অবয়বে শিক্ষার ছাপ খুব একটা স্পষ্ট নয়, তাই সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম পড়াশোনার কথা। সরল মনেই স্বীকার করলেন, এসএসসির পর আর স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি। তাহলে সাংবাদিক হলেন কীভাবে? উত্তরটা আরও চমকপ্রদ—সম্পাদকের সাথে সখ্যতা আর সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে এই 'প্রেস কার্ড' নামক জাদুর কাঠিটি সংগ্রহ করেছেন তিনি।নিজের কৌতূহল দমাতে না পেরে সাংবাদিকতার কার্ডটির ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি যা বললেন, তা শুনে হতবাক হতে হয়। তার ভাষ্যমতে, এই কার্ড থাকলে নাকি পুলিশ ধরে না, যেকোনো ঝামেলায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পার পাওয়া যায়, আর মাঝে মাঝে সম্পাদককে বিভিন্ন ‘কাজ’ (নিউজ নয়, অন্য কিছু) ধরিয়ে দিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ মেলে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল মাপের সাংবাদিক নিউজ লিখতে জানেন না; কেবল মুখে বলে দেন, অন্য কেউ তা লিখে দেয়। আসল পরিচয় জানতে চাইলে বেরিয়ে এল অন্য রূপ। তিনি মূলত জমির দালালি করেন এবং কোর্টের মুহুরি হিসেবে কাজ করেন। আড্ডার গভীরতা বাড়লে তার ব্যক্তিগত জীবনের যে ‘কীর্তি’ উঠে এল তা রীতিমতো রূপকথাকেও হার মানায়। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি মোট ২১টি বিয়ে করেছেন, যার মধ্যে বর্তমানে ৩ জন স্ত্রী তার সংসারে আছেন। একজন ভুয়া সাংবাদিকের এমন স্বীকারোক্তি শোনার পর হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি হলো। যে পেশাকে বলা হয় সমাজের দর্পণ, যে পেশার মানুষগুলো সত্যের সন্ধানে দিনরাত পরিশ্রম করেন, সেই মহান পেশা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ

0 মন্তব্যসমূহ