লোড হচ্ছে...

পরানগঞ্জ বাজার কমিটি গঠনের উদ্যোগ : ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি।


মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন তুষার ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ Smtv Media ময়মনসিংহ।


 ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী পরানগঞ্জ বাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা ও ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী বাজার কমিটি গঠনের পক্ষে একমত হয়েছেন স্থানীয় সকল ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে একটি সুষ্ঠু ও সুসংগঠিত কমিটির অভাব বোধ করছিলেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে নতুন কমিটি গঠনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ ও ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং জরুরি দাবি উত্থাপিত হয়েছে।ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি—নতুন কমিটিতে যারা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন, তারা যেন কেবল দোকান মালিক বা ঘর মালিকদের স্বার্থ রক্ষা না করে, সাধারণ ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের অধিকারের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেন।প্রধান সমস্যা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিমালা বাজারের সাধারণ ও ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে মূলত তিনটি প্রধান সমস্যার কথা উঠে এসেছে, যা নতুন কমিটির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত  ১) ঘর ভাড়া ও জামানত (সিকিউরিটি) নিয়মের যৌক্তিকীকরণ ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো ঘর মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা। অনেক মালিক প্রতি বছরই কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়া ঘর ভাড়া বাড়িয়ে দেন। এছাড়া সিকিউরিটি বা অগ্রিম বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়, যার কোনো সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা বা আইনি নিয়ম নেই।ব্যবসায়ীদের চাওয়া নতুন কমিটিকে ঘর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের যৌথ সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। বছরে সর্বোচ্চ কত শতাংশ ভাড়া বাড়ানো যাবে এবং সিকিউরিটির টাকার পরিমাণ কত হবে, তা নিয়ম করে দিতে হবে। ২) চুরি রোধ ও ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পরানগঞ্জ বাজারে প্রায়শই চুরির ঘটনা ঘটলেও নৈশপ্রহরী বা বাজার কমিটির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। কোনো দোকানে চুরি হলে চোর ধরা তো দূরের কথা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ বা সান্ত্বনাও দেওয়া হয় না। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ীদের চাওয়া: বাজারে পর্যাপ্ত ও সজাগ নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে এবং পুরো বাজার সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, কোনো দোকানে চুরি হলে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বা জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য একটি বিশেষ 'তহবিল' গঠন করতে হবে।  ৩) বহিরাগতদের অত্যাচার ও ব্যবসায়ীদের শারীরিক নিরাপত্তা বাজারে ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বহিরাগত বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাধারণ দোকানদারদের ওপর চড়াও হন। এমনকি গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনাও ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।ব্যবসায়ীদের চাওয়া বাজারে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বহিরাগত যেন কোনো অজুহাতে কোনো দোকানদারের গায়ে হাত তুলতে বা হেনস্তা করতে না পারে, সে ব্যাপারে কমিটিকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যেকোনো বিরোধে বাজার কমিটি তাৎক্ষণিক সালিশ ও আইনি সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াবে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য আমরা বাজারে ব্যবসা করে খাই। ঘর মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া এবং যখন-তখন অগ্রিম টাকার চাপে আমরা দিশেহারা। আমরা এমন কমিটি চাই, যারা আমাদের এই বুক ফাটা কান্না শুনবে। বাজার কমিটি যেন শুধু বড়লোকদের পকেট ভারী করার হাতিয়ার না হয়।"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, পরানগঞ্জ বাজার। একটি বাজারের প্রাণ হলেন তার সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পরানগঞ্জ বাজারের সকল ব্যবসায়ী যেহেতু কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে এই কমিটি তখনই সফল হবে, যখন এটি মালিক-ভাড়াটিয়া বৈষম্য দূর করে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারবে। বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা, চুরি রোধ এবং ব্যবসায়ীদের আত্মমর্যাদা রক্ষায় নতুন নেতৃত্ব অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা পরানগঞ্জ বাজারের শত শত সাধারণ ব্যবসায়ীর।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ