লোড হচ্ছে...

ময়মনসিংহে পরানগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচন ২০২৬: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ।


সাখাওয়াত হোসেন তুষার ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ Smtv Media 





ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উৎসব-উদ্দীপনা তৈরি হলেও, এরই মাঝে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। বাজারে কোনো অস্তিত্ব নেই কিংবা ভ্রাম্যমাণ এমন ব্যক্তিদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বৈধ ভোটাররা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভোটার তালিকায় ‘ভুয়া’ ভোটারের ছড়াছড়ি! সরেজমিনে ৪নং পরানগঞ্জ বাজারে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শুরু হতেই দেখা গেছে উল্টো চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিশেষ কোনো পক্ষকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং ভোটের সমীকরণ নিজেদের পক্ষে ভারী করতে বাজারে স্থায়ী দোকান বা ব্যবসা নেই এমন লোকজনকে ভোটার বানানো হচ্ছে। এমনকি অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদেরও কৌশলে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।শুধু তাই নয় একটি দোকান অথচ ভোট হচ্ছে দুই থেকে তিন জন। ক্ষুব্ধ বৈধ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য বাজারের কয়েকজন দীর্ঘদিনের লিগ্যাল (বৈধ) ও স্থায়ী ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:> "আমরা বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত খাজনা, ট্যাক্স ও চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। অথচ নির্বাচনে জেতার জন্য কিছু সুবিধাবাদী লোক এমন মানুষদের ভোটার বানাচ্ছে যাদের বাজারে কোনো পজিশন বা দোকানই নেই। এটা যদি বন্ধ না হয়, তবে এই নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতে, ভ্রাম্যমাণ বা অস্তিত্বহীন লোকজনকে যদি ভোটার তালিকায় রাখা হয়, তবে বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অধিকার খর্ব হবে এবং বাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হবে।সচেতন মহলের গভীর উদ্বেগ এই অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারের সচেতন নাগরিক ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরানগঞ্জ বাজার এই অঞ্চলের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানকার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বের ওপর বাজারের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নির্ভর করে। যদি ভোটার তালিকাতেই কারচুপি করা হয়, তবে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই ভোটার তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করার দাবি জানিয়েছেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া ও দাবি ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এবং একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে এখনই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।সাধারণ ব্যবসায়ী ও লিগ্যাল ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রধান তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:১.সরেজমিনে তদন্ত প্রতিটি ভোটারের নাম বাজারে তার স্থায়ী ব্যবসা বা দোকান ও লাইসেন্স দেখে নিশ্চিত করতে হবে। ২.অস্থায়ী ও ভুয়া ভোটার বাদ ভ্রাম্যমাণ এবং বাজারে ব্যবসা বহির্ভূত সকল নাম ভোটার তালিকা থেকে অনতিবিলম্বে বাদ দিতে হবে।৩.খসড়া তালিকা প্রকাশ খচূড়ান্ত তালিকার আগে একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে আপত্তি বা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।৪নং পরানগঞ্জ বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি স্বচ্ছ, জালিয়াতিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা প্রণয়নই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সাধারণ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ