লোড হচ্ছে...

​ময়মনসিংহে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও বহাল তবিয়তে আজিজুল: সিরতা ইউনিয়নে অনিয়ম ও কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।


ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ Smtv Media তারিখ ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।




ময়মনসিংহ: দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নং সিরতা ইউনিয়নে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। ৫ নং সিরতা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি ভাতা বিতরণে দুর্নীতি এবং কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের পতনের পরও তার চেনা দাপট কমেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।প্রভাব খাটিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও একচ্ছত্র আধিপত্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের মেয়াদে সাবেক ধর্মমন্ত্রীর এপিএস আবু সাঈদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সিরতা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এপিএস-এর ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও এলাকায় তার প্রভাব ও চেনা দাপট এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি ও আত্মসাতের খতিয়ান আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি তহবিল থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ। স্থানীয়দের অভিযোগগুলো নিচে দেওয়া হলো: ভাতা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও বাণিজ্য: সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিত্তবানদের কার্ড দেওয়া হলেও প্রকৃত দুস্থরা বঞ্চিত হয়েছেন। সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি: ইউনিয়ন পরিষদে আসা সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য দিনের পর দিন ঘোরানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ​ভুয়া প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ: প্যানেল চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিভিন্ন টিআর, কাবিখা ও রাস্তা সংস্কারের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন। জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ​এলাকাবাসীর দাবি, দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ঘটলেও সিরতা ইউনিয়নে আজিজুল ইসলামের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সুবিধাভোগী এই নেতা এখনো এলাকায় সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। অপরাধ ও দুর্নীতি করেও তিনি কীভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম অন্যায়ের অবসান হবে। কিন্তু আজিজুল ইসলামের মতো দুর্নীতিবাজরা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। গরিবের হকের টাকা যারা মেরে খেয়েছে, তাদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হোক।অভিযুক্তের বক্তব্য ​এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। (অথবা: যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন)।সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ সিরতা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই বিপুল অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, সরকারি অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ