পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলে পল্লীগুলোতে। ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিটি মুহূর্ত স্বজনদের জন্য কাটছে চরম উৎকণ্ঠা আর কান্নায়।এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন।মঙ্গলবার বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মোঃ ইজাজুল হক নিজে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন।এ সময় ইউএনও বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর এবং মাননীয় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী-এর নির্দেশনায় ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের প্রতিটি পরিবারের হাতে ৭,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ৬ জেলেকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে এবং উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সবসময় থাকবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তাদের একটাই আকুতি যেন দ্রুত নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধান পাওয়া যায়। অনেকের চোখে তখনও ছিল অশ্রু, বুকভরা অপেক্ষা আর ফিরে পাওয়ার আকুল প্রার্থনা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল নবী, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি আবু নাইম, উপজেলা প্রকৌশলী, গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।সমুদ্রের বুকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, পুরো গলাচিপাবাসীর হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। নিখোঁজ জেলেদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে স্বজনরা। সকলের প্রার্থনা আল্লাহ যেন নিখোঁজ জেলেদের দ্রুত উদ্ধার হওয়ার তাওফিক দান করেন এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।


0 মন্তব্যসমূহ