লোড হচ্ছে...

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ।


হারুন উর রশীদ,কালীগঞ্জ সাতক্ষীরা স্টাফ রিপোর্টারঃ Smtv Media

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা গ্রামের এক গৃহবধূ যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশে বাধা এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগ এনে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে অভিযোগটি দায়ের করেন তাসলিমা খাতুন (৩৭)। তিনি ভাড়াশিমলা গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে এবং একই গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মো. তুহিন সরদারের স্ত্রী। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তাসলিমা খাতুন উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মো. তুহিন সরদারের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তাকে স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে না তুলে অন্যত্র ভাড়া বাসায় রেখে সংসার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্য জীবনে তুষার নামে বর্তমানে নয় মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।অভিযোগে তিনি বলেন, বিয়ের সময় তার পরিবার থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলি আদালত-২ এ একটি মামলা দায়ের করেন।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতের নোটিশ পেয়ে স্বামী মো. তুহিন সরদার আদালতে হাজির হয়ে ভবিষ্যতে যৌতুক দাবি করবেন না এবং শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ১৬ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বরং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অপমান-অপদস্থ করা হয় এবং বাড়িতে প্রবেশ করলে মারধর, তালাক ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তাসলিমা খাতুনের দাবি, ঘটনার একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি সাক্ষী রয়েছেন। তিনি নিজের সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবনযাপন করতে চান। এ লক্ষ্যেই আইনগত প্রতিকার পাওয়ার আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. তুহিন সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  প্রেসক্লাবের সকল প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ