কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনা পর্যন্ত বর্ধিতকরণের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন প্ল্যাটফর্মে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনা পর্যন্ত বর্ধিত করার বিষয়টি জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার উত্থাপন করার পর থেকেই কিশোরগঞ্জবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের লোকোমোটিভের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— “কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নেত্রকোনায় যেতে দেব না”, “এমনিতেই সিট পাই না, নেত্রকোনায় গেলে আরও সংকট বাড়বে” ইত্যাদি। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া, জুনায়েদ হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস চালুর পর ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। এখন ট্রেনটির রুট পরিবর্তন বা বর্ধিত করা হলে যাত্রীচাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কিশোরগঞ্জের যাত্রীদের জন্য আসনসংকট ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে।একজন যাত্রী বলেন, “বর্তমানেও এই ট্রেনে প্রচুর যাত্রীর চাপ থাকে। অনেক কষ্টে টিকিট পাওয়া যায়। ট্রেনটি নেত্রকোনা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে কিশোরগঞ্জের যাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়বে।বিক্ষোভকারীরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসকে বর্তমানের মতো কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটেই পরিচালনা করা হোক। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে কিশোরগঞ্জবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় ট্রেনটির বর্তমান রুট ও পরিচালনা ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ