লোড হচ্ছে...

১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি,ভাইরাল সেই সুহিকে নিয়ে নতুন মোড়, থানায় জিডি।

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে “১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি” এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি। বক্তব্যটি মুহূর্তেই ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন মোড় নেয় পুরো বিষয়টি। মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি বর্তমানে তাদের শিক্ষার্থী নন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তিনি ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি মাধ্যমের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে তিনি মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অধিকার রাখেন না।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর তুরাগ থানায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিটি করেন মাইলস্টোন কলেজের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি আর মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রী নন। তাই কলেজের পরিচয় বা আইডি কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থাপন করলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনায় তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এ কারণেই তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কলেজের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, ভাইরাল বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর প্রকৃত পরিচয় এবং তিনি কোন অবস্থান থেকে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কলেজের করা সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আদালতে কোনো রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভিডিও ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কিছু তথ্য সত্য হলেও কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকরও হতে পারে। তাই যেকোনো ভাইরাল তথ্য বিশ্বাস বা প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।ঘটনার তদন্ত শেষ হলে অভিযোগের সত্যতা, দায় এবং পরবর্তী আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ