লোড হচ্ছে...

অসহায় পরিবারের পাশে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত গলাচিপার গোলখালীতে ।

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা, পটুয়াখালী।
মানুষ মানুষের জন্য এই কথাটির বাস্তব উদাহরণ যেন তৈরি করে চলেছেন গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম। অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছেন তিনি ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা।গোলখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুহরী ২য় খণ্ডের বাসিন্দা মোঃ রাহাত হাওলাদার (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর পায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুকালে তিনি রেখে যান দুই কন্যাসন্তান জমিলা আক্তার (১২) ও আরিফা (৭)।অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে দুই শিশুর জীবন যেন হঠাৎ করেই অন্ধকারে ঢেকে যায়। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ায় হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে শিশু দুটির পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান তুলে দেওয়া হয়।শুধু এতেই থেমে থাকেননি তারা। গোলখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম জামের মসজিদে প্রায় ৮০ জন এবং ডাকুয়ার চর সদর বাড়ির জামের মসজিদে প্রায় ৬০ জনের মাঝে বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়। দুই স্থানে মোট প্রায় ১৫০ জন মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
এরপর সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম পৌঁছে যায় গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে অহিদুল মাঝি ঘাতক ডাকাতের হাতে প্রাণ হারানোর পর তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। মৃত্যুকালে তিনি রেখে যান তিন সন্তান ছেলে আরাফাত (৯), বড় মেয়ে রিমি (২০) ও মেজ মেয়ে সুমাইয়া (১৬)। স্ত্রী মোসাঃ আসমা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে আজ অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন।এই পরিবারের দুর্দিনেও পাশে দাঁড়িয়েছেন হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম। তাঁর এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু গোলখালী ইউনিয়ন নয় গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে আসছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড এখনো চলমান রয়েছে।
এ সময় হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের টিমের সদস্য, এলাকার ছোট-বড় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন,আল্লাহ তায়ালা যতদিন আমাকে এই দুনিয়ায় বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন আমি অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।তাঁর এই কথায় যেন ফুটে ওঠে এক মহান অঙ্গীকার নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য বেঁচে থাকার অঙ্গীকার। যেখানে একজন অসহায় বাবার মৃত্যুর পর সন্তানদের চোখে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, যেখানে স্বামীহারা একজন নারী সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটান সেখানেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন।অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানোই হোক মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ