এ জে সোহেল, ষ্টাফ রিপোর্টারবাঙ্গরা বাজার থানার ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের কোড়েরপাড় মধ্য পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত হাসান আলী, ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাত অনুমান ১০টায় ইসরাইলের বাড়ির পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তার উপর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।স্থানীয় ভাবে জানা যায় যে, ভিকটিম মাসুদ মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মামার সাথে সম্পর্ক চলাকালে ভিকটিমের ভাগিনা মোঃ শিপন মিয়ার সাথে উক্ত মহিলার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।গত ২০ অক্টোবর দুপুরে শিপন উক্ত নারীকে সঙ্গে নিয়ে ভিকটিমের বোনের বাড়িতে গেলে মাসুদ মিয়ার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয় এবং শিপন প্রকাশ্যে জিবন নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ভিকটিমের বোন তখন বিষয়টি মিটমাট করে দেন।
পরবর্তীতে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে একইদিন রাত অনুমান ১০টায় শিপন কৌশলে মাসুদ মিয়াকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি কুমিল্লা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর হলে, তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় বাঙ্গুরা বাজার থানার একটি বিশেষ দল এবং ডিবি তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় থেকে অভিযান পরিচালনা করে ২৫ অক্টোবর ইং তারিখ আনুমানিক ১৬:৩০ ঘটিকায় উক্ত এলাকা শিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে। আসামি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এক নারীর সাথে মামা এবং তার প্রেমের সম্পর্কের কারণেই তার মামাকে সে হত্যা করে।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে ।

0 মন্তব্যসমূহ