লোড হচ্ছে...

দৌলতপুরে ‘নবীরন ফার্মেসী’র আড়ালে ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা ।


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মান্দারতা বাজারে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে 'ডাক্তার' পদবি ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অপচিকিৎসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মো: নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 'নবীরন ফার্মেসী' নামে একটি ফার্মেসির সাইনবোর্ডে নিজের নামের পাশে 'ডাঃ' লিখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছেসাইনবোর্ডের আড়ালে বড় প্রতারণাসরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দৌলতপুরের মান্দারতা বাজারে অবস্থিত 'নবীরন ফার্মেসী'র ঝুলানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— "ডাঃ মোঃ নিজাম উদ্দিন, লোকাল মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার, ঢাকা।" সাইনবোর্ডে দেশী-বিদেশী সকল প্রকার ঔষধ বিক্রির কথা বলা হলেও, বাস্তবে তিনি সেখানে নিয়মিত চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন এবং ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দিচ্ছেন।বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন ২০১০ অনুযায়ী, নূন্যতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ (ডাঃ) পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে নিজাম উদ্দিন দিব্যি ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করে গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।চিকিৎসাসেবা নাকি জীবন নিয়ে ছিনিমিনি?স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মান্দারতা বাজার ও আশেপাশের গ্রামের অসচেতন ও সাধারণ মানুষ 'ডাক্তার' লেখা দেখেই তার কাছে চিকিৎসার জন্য ছোটেন। একজন লোকেল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডিপ্লোমাধারী সর্বোচ্চ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বা পরামর্শ দিতে পারলেও, নিজাম উদ্দিন পূর্ণাঙ্গ ডাক্তারের মতো জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে ভুল চিকিৎসা ও ভুল ওষুধ সেবনে রোগীদের স্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা তো সাইনবোর্ডে 'ডাঃ' লেখা দেখে ভাবি উনি বড় ডাক্তার। কিন্তু পরে জানতে পারলাম উনি এমবিবিএস পাসই করেননি! এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হওয়া উচিত।"বিএমডিসি আইন যা বলছেস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএমডিসি স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া নামের আগে 'ডাক্তার' ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া যেকোনো ধরনের ব্যবস্থাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট আইনি সীমা। আইন লঙ্ঘন করে এভাবে ভুয়া ডিগ্রি বা ডাক্তার পরিচয় দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এবং দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের আসু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। মান্দারতা বাজারের মতো গ্রামীণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা বন্ধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা.আইভী ফেরদৌস বলেন, খুব শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ