স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের চন্দনীমহল খ্রিস্টানপাড়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় শিমুল মজুমদার (৪৬) বাদী হয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেনহাটি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দনীমহল খ্রিস্টানপাড়ার বাসিন্দা শিমুল মজুমদারের বসতবাড়ির পাশে প্রতিবেশী ভবরঞ্জন মজুমদারের ১ শতক ১০ পয়েন্ট জমি রয়েছে। শিমুল মজুমদারের দাবি, জমিটি তাঁদের বসতবাড়ির পাশে হওয়ায় তাঁরা বাজারদরে তা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ভবরঞ্জন মজুমদার জমিটি তাঁর কাছে বিক্রি না করে আনোয়ারা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকেই জমিটি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় শিমুল মজুমদার বাদী হয়ে আনোয়ারা খাতুন ও ভবরঞ্জন মজুমদারকে বিবাদী করে দৌলতপুর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। দেওয়ানি ১৬৮/২৫ নম্বরের ওই মামলায় বি.আর.এস. খতিয়ান নম্বর ১২০০ ও ১৬৫৩ এবং দাগ নম্বর ৪৩১১ ও ৪৩১২ উল্লেখ করে বাটোয়ারা ও বাটোয়ারা আইনের ৪ ধারায় অগ্রক্রয় অধিকারসংক্রান্ত প্রতিকার চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।নির্মাণকাজ ঘিরে উত্তেজনা, উঠেছে হুমকির অভিযোগঅভিযোগ অনুযায়ী, জমিটির ক্রেতা আনোয়ারা খাতুনের স্বামী মো. মামুন সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে শিমুল মজুমদার ও তাঁর পক্ষের লোকজন আপত্তি জানান। তাঁদের দাবি, জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেনহাটি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।মামলার বাদী শিমুল মজুমদার অভিযোগ করেন, আনোয়ারা খাতুন জমিটি কেনার পর থেকে তাঁর স্বামী মো. মামুন তাঁকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে আসছেন। তাঁর দাবি, জমিটি ত্রিভুজাকৃতির হওয়ায় এর কিছু অংশ তাঁদের বাড়ির প্রবেশপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া জমিতে ঘেরাবেড়া দিয়ে তাঁদের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।শিমুল মজুমদার বলেন, মামলার বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক, তা তাঁরা চান না। একই সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক বসবাস ও চলাচলে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আদালত যে রায় দেবেন, তা মেনে নেবেন বলেও জানান শিমুল মজুমদার।এদিকে, শিমুল মজুমদারের ভাই পলাশ মজুমদার গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করে বলেন, “এ জমি আমাদের। বিবাদীপক্ষ হুমকি-ধমকি দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। মামলা চলমান রয়েছে। আমরা চাই, আদালতের মাধ্যমে এ বিরোধের সমাধান হোক। আদালত যার পক্ষে রায় দেবেন, আইন অনুযায়ী তিনিই জমির অধিকার পাবেন।”অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিবেশী রেজাউল, যিনি চা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তিনিও গণমাধ্যমের সামনে বিরোধটির শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির পথ খুঁজে বের করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা খাতুনের স্বামী মো. মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জমির মালিকানা ও অগ্রক্রয় অধিকারসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
0 মন্তব্যসমূহ