সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, রাজশাহী: রাজনীতি কেবল ক্ষমতা বা পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়—বরং চরম দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে ছায়া হয়ে থাকাটাই প্রকৃত রাজনীতির মূল সৌন্দর্য। এই আদর্শকে বাস্তব জীবনে ধারণ করে রাজনীতির পাশাপাশি নিঃস্বার্থভাবে জনসেবা ও দলীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন রাজশাহী জেলা যুবদলের সংগ্রামী কর্মী মিজানুর রহমান সুমন। দলীয় পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে তিনি বাঘা উপজেলার সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।সরজমিন ঘুরে জানা যায়, মিজানুর রহমান সুমনের ধারাবাহিক ও বহুমুখী জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং আপসহীন রাজনৈতিক ভূমিকা কেবল বাঘা এলাকাই নয়, পুরো রাজশাহী জেলাজুড়ে এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবং তার জনসেবামূলক কাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে এলাকার ৫-৬ বছরের একটি বড় ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে বৃক্ষরোপণ এবং বসার স্থান নির্মাণ করেছেন মিজানুর রহমান সুমন। যা পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের কঠিন সময়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এলাকার কর্মজীবী ১৫০০ মোটরসাইকেল চালকদের দুই ধাপে জ্বালানি সহায়তা প্রদান করেন তিনি। এমনকি নিজের গাড়ি থেকেও অসংখ্য বার তেল বেরকরে বাইকাদের দিয়েছেন সুমন। জ্বালানি সংকটে জ্বালানি সহায়তার ঘটনা রাজশাহী জেলা তথা সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি ছিল একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।দলের ক্রান্তিকাল ও দুর্দিনে সবসময় সামনের সারিতে থেকে দলীয় সকল কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন সুমন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দলের যেসব নেতাকর্মী হামলা ও মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাদের কারাবন্দী অবস্থায় নিজ অর্থায়নে জামিনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর ও আর্থিক সহায়তা প্রদানও করেছেন সুমন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে নিজ খরচে সর্বাত্মক প্রচারণা চালানো এবং দলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখতে তিনি সবসময় অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন।জানা যায়, সুমন তাঁর সেবামূলক কাজের সিংহভাগ জুড়ে রেখেছেন চিকিৎসা খাত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা বাঘা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডসহ আশপাশের সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে নিজের অর্থে ওষুধ কিনে দেওয়া, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল পরিশোধ, বড় ধরনের অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা এবং নিয়মিত অসচ্ছল রোগী ও মরদেহ বহনের জন্য এম্বুলেন্স ভাড়া প্রদান করে আসছেন তিনি।আরও জানা যায়, করোনা মহামারির দুর্যোগকালীন সময়ে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রেখেছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিপি মেশিন, অক্সিমিটার, ডায়াবেটিস মাপা মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং শিশুসহ সকলের সুরক্ষার জন্য ‘এন্টি চোকিং ডিভাইস’-এর মতো আধুনিক সেবামূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছেন মিজানুর রহমান সুমন। গভীর রাতেও এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে পরম আস্থার সাথে পাশে দাঁড়ান এই তরুণ রাজনৈতিক কর্মী।অসহায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এই যুবদল নেতা। জীবিকার একমাত্র মাধ্যম নষ্ট হয়ে যাওয়া ভ্যান ঠিক করতে গরিব ভ্যানচালককে নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করাই , যা ভ্যানচালকের পরিবারকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে বড় ধরনের শক্তি জুগিয়েছে। এছাড়া এলাকার বহু দরিদ্র মানুষের ঘরের ও বসার স্থানের চাল মেরামতের জন্য নিজ উদ্যোগে টিন সহায়তা প্রদান করেও তাদের মাথার ওপর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করেছেন এই মিজানুর রহমান সুমন। স্থানীয়রা আরও জানান, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তায় করেন তিনি। রমজানে এলাকার বিভিন্ন মসজিদে রোজাদারদের ইফতার করানো, ঈদে দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, কোরবানির ঈদে অসচ্ছল মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ এবং গোপনে কর্মহীন ও অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য, ঔষধ, ফল ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া তাঁর নিয়মিত কাজের অংশ। এমনকি সাম্প্রতিক বন্যায় দুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া সহ এলাকাবাসীদের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরশনে টিউবওয়েল স্থাপন করেও পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। এছাড়াও জনদুর্ভোগ কমাতে জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সরকারি ভাবে সমাধানের বিষয়েও রয়েছে এই তরুণ যুব নেতার ভূমিকা।
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুমনের এই নিঃস্বার্থ সেবামূলক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ হয়েছে।বাঘা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আবু বক্কর বলেন, সুমন শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি আমাদের যেকোনো বিপদের ভরসাস্থল। করোনাকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এলাকার কে অসুস্থ হলো বা কার ঘরে খাবার নেই—সব খবর তিনি রাখেন। গরিব ভ্যানচালকের নষ্ট ভ্যান ঠিক করে দেওয়া থেকে শুরু করে ঘর তোলার জন্য টিন দিয়ে সহায়তা করা—সব কাজেই তিনি অনন্য। এমন নিবেদিতপ্রাণ তরুণ নেতৃত্বই আমাদের এলাকার গর্ব।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী সুজন সরকার জানান, দলের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সুমন ভাই সবসময় সামনের সারিতে থাকেন। হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের যেকোনো সংকটে সবার আগে তাঁর উপস্থিতি বাঘার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
মানবসেবা ও রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান সুমন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের আহব্বান, "করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ " এই আহব্বানকে বাস্তবায়িত করতে এবং চারঘাট-বাঘা আসনে মাননীয় সংসদ সদস্য উত্তর বঙ্গের সিংহ পুরুষ মজলুম জননেতা আবু সাইদ চাঁদ চাচার অনুপ্রেরণায় রাজশাহী জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে আমি সাধারণ একজন হিসেবে এ সকল কাজ গুলো করে থাকি। আমি মনে করি রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের ভালোবাসা ও দলীয় আদর্শকে পাথেয় করেই আমি শেষ পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যাওয়ার ব্রত নিয়েছি। কোনো পদ-পদবির মোহে নয়, মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতেই আমার এই পথচলা। সবাই আমার জন্য দোয়া করেন। জানা গেছে, মিজানুর রহমান সুমন বাঘা পৌর এলাকার দক্ষিণ মিলিক বাঘা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছোট ছেলে। তাঁর বাবা আব্দুস সামাদ বাঘার একজন কৃতি ফুটবলার এবং বাঘা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে বুকে ধারণ করেই সুমন আজ জনসেবা ও রাজনীতির এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।
সামাজিক সচেতনতা, অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবি (যেমন বাঘা হাইওয়ে সড়ক ও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান সংস্কারে মানববন্ধন) থেকে শুরু করে দলের পক্ষে আপসহীন লড়াই এবং নির্যাতিত মানুষের পক্ষে তাঁর এই ধারাবাহিক ভূমিকা বাঘার জনপদে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ