জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, দিঘলিয়া শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে খুলনার দিঘলিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামাল হুসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মমতাজ খানম, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সাঈদা খাতুন, দিঘলিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমিত্র দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাস, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য দিলীপ দাস, দিঘলিয়া ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ, পল্লী বিদ্যুতের প্রতিনিধি কামাল হোসেন, ওজোপাডিকোর প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাস।সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সুজন দাশ গুপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। যেকোনো প্রয়োজনে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে ইউএনও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করা যাবে না। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নামাজের সময় মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখতে হবে। পূজাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। জরুরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি মন্দিরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর সরবরাহ করা হবে, যাতে যেকোনো সমস্যায় দ্রুত পুলিশের সহায়তা নেওয়া যায়। পূজাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।দিঘলিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমিত্র দত্ত বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মন্দির কমিটিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। এ সময় তিনি পূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামাল হুসাইন জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে মন্দিরগুলোর জন্য বরাদ্দ হিসেবে ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির সভাপতিদের হাতে সরকারি বরাদ্দের ডিও লেটার (বরাদ্দপত্র) তুলে দেন।

0 মন্তব্যসমূহ