লোড হচ্ছে...

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর ।


নিজস্ব প্রতিবেদক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একদিনে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এখন বহুমুখী কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট গঠন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।প্রশাসন ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়া এই সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং জুড়ে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সুযোগ নিয়ে নাটকীয়ভাবে সচিব পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহার করে সভা-মিলনমেলা চালিয়ে যান।এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলের দাবি, তাঁর পদোন্নতির প্রতিটি ধাপের আদেশ, গ্রেড এবং এর পেছনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা জরুরি।নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্টসের ছাত্র হয়েও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ উপায়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আড্ডা এবং ক্ষমতার পালাবদলে খোলস পাল্টে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডে তোফায়েলের নাম এলেও পরবর্তীতে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া শিক্ষা ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কবির আহমেদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিজের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বদলি করানোর ঘটনায় তো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনটিতে রাজউকের ‘ফার’ (FAR) এবং সেটব্যাক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অকুপেন্সি সনদ নেওয়ার আগেই বসবাস শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সাল থেকে দুদকের তদন্ত ও রাজউকের জরিমানা অমান্য করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে এই ভবনে।অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামকে ঘিরে গড়ে ওঠা বলয়ের সদস্যরা অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পদে থেকেও নিয়ম ভেঙে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘুষ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়ে উত্তরা, বসুন্ধরা ও কুমিল্লায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্লটের মালিক হয়েছেন। খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরি করলেও সাবেক সচিবের প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কনটেক ডেভেলপার’, ‘কনফিডেন্স গ্রুপ’ এবং ‘বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’সহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আবাসন ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজউকের বিধি লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের দাবি—রাজউকের বিতর্কিত ভবনগুলোর নকশা যাচাই, সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনস্বার্থে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র দ্রুত জাতির সামনে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ