লোড হচ্ছে...

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: গোলখালী ইউনিয়নে ১,৪০২ জেলের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ ।


নাসির উদ্দিন পটুয়াখালী:মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জীবিকার সংকটে পড়া জেলেদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২ নম্বর গোলখালী ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৪০২ জন জেলের মাঝে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে সরকারি বিশেষ বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়েছে।মা ইলিশ রক্ষায় নির্ধারিত এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা।
যাঁদের প্রতিদিনের উপার্জন নদীর মাছের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের অনেকের সংসার চলে দিনের আয় দিয়ে। নদীতে মাছ ধরতে না পারায় পরিবারের খাবার জোগাড়, সন্তানদের মুখে আহার তুলে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো তাঁদের জন্য হয়ে ওঠে কঠিন চ্যালেঞ্জ।এমন পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্যসহায়তা জেলেদের পরিবারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছেগোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ এবং সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাবু ভিক্টর বাইন উপস্থিত থেকে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গোলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা, গোলখালী ইউনিয়ন শ্রমিক অধিকারের সভাপতি মোঃ জামাল রাড়ি, সাবেক বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান সুজন মোল্লা, গোলখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ হাচান গাজী, স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।প্যানেল চেয়ারম্যানের বক্তব্যচাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন যেসব জেলে রয়েছেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের জীবিকা বন্ধ থাকে।এ সময়ে জেলেদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কোনো জেলে পরিবার যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে।তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জেলেরা সাময়িক কষ্ট স্বীকার করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরাই এর সুফল ভোগ করবেন।মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্যসিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাবু ভিক্টর বাইন বলেন, “আমি নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেছি। গোলখালী ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৪০২ জন জেলের প্রত্যেকের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে ইলিশের বংশবিস্তার বাড়বে, যা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জেলেদের মুখে স্বস্তির প্রত্যাশানদী ও সমুদ্রনির্ভর গোলখালী ইউনিয়নের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরে যাঁরা সংসার চালান, নিষেধাজ্ঞার দিনগুলো তাঁদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। আয় বন্ধ থাকলেও থেমে থাকে না সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা পরিবারের খাবারের প্রয়োজন।এমন বাস্তবতায় সরকারি চাল সহায়তা জেলেদের কাছে শুধু খাদ্যশস্য নয়, বরং সংকটের সময়ে বেঁচে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। তবে এ সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের হাতে যথাযথভাবে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।মা ইলিশ রক্ষা মানে শুধু একটি মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের মৎস্যসম্পদ, নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং হাজারো জেলে পরিবারের ভবিষ্যৎ। তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার পাশাপাশি অসহায় জেলেদের পাশে দাঁড়ানোও সময়ের দাবি।
প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে ইলিশ, ইলিশ বাঁচলে বাঁচবে জেলে পরিবার।সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও জেলেদের জন্য খাদ্যসহায়তার এ উদ্যোগের মাধ্যমে গোলখালী ইউনিয়নে মা ইলিশ সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলে পরিবারগুলোর দুর্দিন কিছুটা লাঘব হবে,এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ