বীরমুক্তিযোদ্ধা আজহার হোসেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কলেজছাত্র রিদোয়ান আনসারীকে (২৫) অপহরণের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। সন্তানকে ফিরে পেতে মা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। রিদোয়ানকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অপহরণের নয় দিন অতিবাহিত হলেও রিদোয়ানের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু, বুরো সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের প্রেসিডেন্ট নুর ইসলাম সত্তার, এনপিআই ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকারী ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. ফারুক হোসেন, রিদোয়ানের চাচা আব্দুল হান্নান আনসারীসহ এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।বক্তারা তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত রিদোয়ানকে উদ্ধারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রিদোয়ান আনসারী মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় বসবাস করতেন। বিবিএ পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি।পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিদোয়ান। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনে কল আসে। পরিবারের দাবি, কলকারী ব্যক্তিরা রিদোয়ানকে জিম্মি করার কথা জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় প্রমাণ হিসেবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য রিদোয়ানের সঙ্গে স্বজনদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।পরিবারের সদস্যরা জানান, রিদোয়ানের জীবন রক্ষার আশায় অপহরণকারীদের দেওয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এ ঘটনায় রিদোয়ানের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত ২৫ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি তাঁকে উদ্ধারের জন্য র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।অপহরণের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও রিদোয়ানের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন মা ও স্বজনেরা। রিদোয়ানকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্যসমূহ