লোড হচ্ছে...

শপথ ভঙ্গের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ।




মোঃ আব্দুস সালাম ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: Smtv Media রাজশাহী।

ঢাকা, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের রাতে তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কয়েক মাস পর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। এই দ্বিমুখী অবস্থানকে আন্দোলনকারীরা সরাসরি "মিথ্যাচার" এবং "শপথ ভঙ্গ" হিসেবে দেখছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদের মর্যাদা ও সত্যবাদিতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। যখন তিনি নিজেই একটি ঐতিহাসিক সত্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ান, তখন তিনি নৈতিকভাবে ওই পদে থাকার যোগ্যতা হারান। নির্বাচন পরেও কালের কণ্ঠ এক সাক্ষাৎকারে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নামে বিভ্রান্তি মুলক অনেক কিছু কথা বলেন । যা ব্যাপক আলোচনার রুপ নেয় । ১২ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য ও সে তার নিজের রুপ পরিবর্তন করেছেন । তিনি মরহুমা খালেদা জিয়ার অনেক গুনগান মুলক কথাবার্তা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক সম্পর্কে অনেক প্রশংসা করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষক হিসেবে ভুষিত করেন । হাসিনাকে ফ্যাসিবাদ সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করেন । আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে পরিচিত মোঃ সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছিল সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায়। তিনি দলটির প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য ছিলেন। ছাত্র-জনতার যে বিপ্লব কয়েক শ শহীদের রক্তে অর্জিত হয়েছে, সেই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল "ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ"। আন্দোলনকারীদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলের একজন সক্রিয় অংশীদারকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে রাখা মানে হলো বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করা। তাদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে পুরোনো ব্যবস্থার কোনো প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে থাকতে পারেন না। তার পদত্যাগ নিয়ে দেশে একটি আইনি বিতর্ক চলছে। যেহেতু বর্তমান সংসদ একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত এবং আগের সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তাই সাধারণ ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো জটিল। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৫ই আগস্টের পর দেশে যা ঘটছে তা একটি "অস্বাভাবিক পরিস্থিতি" বা বিপ্লব। এক্ষেত্রে সংবিধানের আক্ষরিক ব্যাখ্যার চেয়ে "ডকট্রিন অব নেসেসিটি" বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জনগণের ইচ্ছাই (Public Will) সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। তাকে পদে রাখা মানে হলো একটি আইনি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে জিইয়ে রাখা।আজকের নবগঠিত সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি আনুষ্ঠানিক রীতি হলেও, বিরোধী দল তাকে "অবৈধ" ও "বিতর্কিত" হিসেবে চিহ্নিত করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছে। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের একটি বড় অংশ তাকে আর "অভিভাবক" হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। যখন সংসদ এবং জনগণের একটি বিশাল অংশ রাষ্ট্রপতির ওপর আস্থা হারায়, তখন তার পদে থাকা কেবল সময়ের অপচয় এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর বাংলাদেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র চায়। শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদে থাকা এই স্বচ্ছতার পথে বড় বাধা। তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিতর্কিত ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ইতিহাস তাকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পরিশেষে, রাষ্ট্রপতির পদটি কেবল একটি আলঙ্কারিক পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আস্থার প্রতীক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোঃ সাহাবুদ্দিন সেই আস্থা হারিয়েছেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে তার পদত্যাগ বা অপসারণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ