মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে একটি নিরাপদ ঘর এ স্বপ্নই যেন আজ অধরা হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালির চর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হাওলাদারের জন্য।ঘরের অভাবে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি ও তার পরিবার।দেলোয়ার হাওলাদার, পিতা মৃত্তিকা মোঃ তাহের হাওলাদার।জীবনের নানা সংগ্রাম আর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক দেলোয়ার হাওলাদার জানান, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ এবং দুই মেয়ের বিয়ের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তিনি ব্যাপক ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, “দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ এবং দুই মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে অনেক দেনায় পড়ে গেছি। নিজের বসতঘরটাও আর তুলতে পারিনি।বর্তমানে পলিথিনের ছাউনির নিচে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই।”স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্ষা এলেই দেলোয়ার হাওলাদারের পরিবারের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় পলিথিনের ছাউনির নিচে বসবাস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি।বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো।গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মোঃ ইজাজুল হক বলেন, আমার বরাবর আবেদন দিলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারি বরাদ্দ এলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।একটি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশায় আজও দিন গুনছেন দেলোয়ার হাওলাদার।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি ও দ্রুত উদ্যোগই পারে তার পরিবারকে পলিথিনের ছাউনি থেকে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ বসতঘরে স্থান করে দিতে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ