রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর খুটিপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে ফুফু-ভাতিজার বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বানেশ্বর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালে মানিক নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সুফিয়া বেগম হাফ কাঠা জমি ক্রয় করে নিয়মমাফিক রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে একই জমি পুনরায় সুফিয়ার ভাই আলমের ছেলে সুজনের কাছে বিক্রি করা হয় এবং তিনিও জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেন। এরপর থেকেই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, জমিতে রাখা বরই গাছের কাঁটা সরানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানালে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়। এছাড়া পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। মুক্তি খাতুন অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুঠিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে তারা আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটিও রয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুজন। তিনি বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিশ হলেও ভুক্তভোগী পক্ষ তা মানতে রাজি হয়নি। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অস্তিত্ব হোল্ডিং রেকর্ডে নেই এবং উল্টো তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিষয়টি আগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কয়েকদিন আগে সুফিয়া বেগম তার কাছে অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহায়তা চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বলে মনে হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সকল প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ