লোড হচ্ছে...

দিঘলিয়ায় একই খেয়াঘাটের দুই পারে টোল আদায়, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা।


জাহিদ হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:Smtv Media



খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর বাজার খেয়াঘাটে একই সময়ে দুই পক্ষের সাব-ইজারাদারের মাধ্যমে দুই পারে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চরম বিভ্রান্তি ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এতে পারাপারকারী যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার মো. আকবর হোসেন বারাকপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে মো. ইয়াজুল শেখের কাছে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে খেয়াঘাটটি সাব-ইজারা দেন। ইয়াজুলের দাবি, ঘাট বুঝে নেওয়ার পর বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও বিরোধ মোকাবিলা করে বৈধ সাব-ইজারাদার হিসেবে অবস্থান নিশ্চিত করতে গিয়ে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ইয়াজুল শেখ জানান, তিনি এককালীন ১৩ লাখ টাকা এবং এক বছরের ভাড়ার বিপরীতে মাসিক ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা হিসেবে আরও ১৩ লাখ টাকা অগ্রিমসহ মোট ২৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু পরে তাকে না জানিয়ে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গা এলাকার মো. কামাল হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেনের নামে নতুন ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। এরপর থেকে সিয়াম ও তার লোকজন তাকে ঘাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, শনিবার (৪ জুলাই) সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো বারাকপুর পাড়ে টোল আদায় করছিলেন। একই সময়ে সিয়ামের লোকজন দিঘলিয়ার সাকিবের নেতৃত্বে শহর পাড়ে বসে টোল আদায় শুরু করে। এতে মাঝি ও যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ইয়াজুলের অভিযোগ, ইজারাদার আকবর হোসেন একাধিক ব্যক্তিকে একই ঘাটের সাব-ইজারা বা ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে তাকে বারবার আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছেন। এ ঘটনায় তিনি দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে শহর পাড়ে টোল আদায়কারী সাকিব বলেন, “ইজারাদার আকবর হোসেন আমাদের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছেন, তাই আমরা টোল আদায় করছি। তিনি আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে ইয়াজুলকে ঘাট দিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। নতুন সাব-ইজারাদার দাবি করা সিয়াম হোসেন বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আকবর হোসেন বসে বিষয়টির সমাধান করতে চান। তিনি যাকে ঘাট দেবেন, আমরা সেটিই মেনে নেব।”এ বিষয়ে ইজারাদার মো. আকবর হোসেন বলেন, “আমি অন্য কাউকে লিখিতভাবে ঘাট দিইনি। ইয়াজুলকেই ঘাট দেব। একদিন অপেক্ষা করতে বলেছি। খুলনায় এসে সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করব। প্রয়োজনে সিয়ামের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভৈরব নদের বারাকপুর বাজার খেয়াঘাটে ইজারা ও সাব-ইজারা নিয়ে বারবার সৃষ্ট বিরোধের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা জরুরি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ