মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম বীরত্বের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিকে ধারণ করে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তা চত্বরে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনায় স্থানীয় জনগণ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌরাস্তা চত্বরে থাকা ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ চললেও শুরুতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় বীরদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতীয় বীরদের স্মৃতি ও একাত্তরের চেতনাকে দুর্বল করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, জাতীয় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে কোনোভাবেই খাটো করা উচিত নয় এবং এ ধরনের ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের উত্তরসূরি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতীয় বীরদের স্মৃতি এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে হবে।এ ঘটনার প্রকৃত কারণ, অপসারণের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির যথাযথ মর্যাদা রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়া অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ