লোড হচ্ছে...

মেয়েদের নামে ফেক ফেসবুক আইডি খুলে প্রেমের ফাঁদ, মেসেঞ্জারে কণ্ঠ ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের চান্দইর এলাকায় এক তরুণীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী সাইম নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের একজন। এ ঘটনায় তরুণীর মা শাহানাজ বেগম মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সাইম ও তাঁর মা আখী বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ‘Samiya Islam’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তরুণীর পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা বলা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কয়েকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। শাহানাজ বেগমের বাড়ির পাশেই সাইমের বাড়ি হওয়ায় প্রতিবেশী হিসেবে তাঁর বড় মেয়ের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সাইম ওই তরুণীকে মেসেঞ্জারে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। ভুয়া আইডিটি একজন তরুণীর এমন বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতেই কণ্ঠ ব্যবহার করার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ।
গত ২৪ আগস্ট সকালে ‘Nitul Ali’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের সময় ওই তরুণীকে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁর মা প্রতিবাদ করলে তাঁকেও গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শাহানাজ বেগম বলেন, তাঁর মেয়ের নিজের কোনো মোবাইল ফোন নেই। কিছুদিন ধরে মেয়েটি চাকরি করছেন। তাঁর মেয়ের পরিচয় ব্যবহার করে এমন কাজ করা হচ্ছে জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে ‘Nitul Ali’ অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী রাজশাহীর কাটাখালী বাজার এলাকার নিটুল সরকার দাবি করেন, ‘Samiya Islam’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে তিনি বিয়ের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করতেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সাইমের বন্ধু রাসেল আলীর বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়েছিল এবং তিনি কয়েক দফায় টাকা পাঠিয়েছেন।
নিটুল সরকার বলেন, শুরুতে তিনি বুঝতে পারেননি যে অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। একবার একজন মেয়ের কণ্ঠে ভয়েস মেসেজ পেলেও বেশিরভাগ সময় টেক্সটের মাধ্যমে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতারণার ঘটনায় তিনি আইনগত বিচার চান। অভিযোগের বিষয়ে সাইম টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা চাননি বা নেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আরও জানান, তাঁর মোবাইল ফোন বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। Samiya Islam’ ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি তাঁর কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে কিছুক্ষণ নীরব থাকেন সাইম। পরে তিনি অ্যাকাউন্টটি তাঁর নয় বলে দাবি করেন।
সাইমের বন্ধু রাসেল আলী বলেন, মোবাইলে গেম খেলার মাধ্যমে সাইমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁর দাবি, সাইম গেম খেলার জন্য তাঁর বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতেন। রাসেলের আরও দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এসব করা হয়েছে এবং ‘Samiya Islam’ অ্যাকাউন্টটি সাইমের মোবাইল ফোনে লগইন করা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে সাইমের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ