মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনুমানিক ২০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অভিযান শেষে জব্দ করা মাছগুলো একটি এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিত্তা খাতুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব মা ইলিশ জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় মাছের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাঁদের বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযানে জব্দ প্রায় ২০ কেজি মা ইলিশঅভিযানে জব্দ করা মাছের পরিমাণ আনুমানিক ২০ কেজি। জব্দ করা মাছগুলো নষ্ট না করে একটি এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাতে এতিম শিশুরা এসব মাছের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতাইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ হয়।মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ পরিবহন ও বিক্রি প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও সহায়তা করে।আইন অমান্য করলে ব্যবস্থামা ইলিশ সংরক্ষণে প্রচলিত আইন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ইলিশের প্রজনন রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ