লোড হচ্ছে...

গলাচিপায় গলা ক্যান্সারে আক্রান্ত মনিরুল, চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম পরিবার বাড়িঘর বিক্রি করে নিঃস্ব স্ত্রী, ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন,সরকারি সহায়তার আকুতি ।


মোঃ নাসির উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালী।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের কাঞ্চনবাড়িয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মনিরুল হাং (৫৫) দীর্ঘ দুই বছর ধরে গলা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।মনিরুল হাং ওই গ্রামের মৃত হোছেন আলী হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গলা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান রাজিবের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শাহিনা আক্তার রোগীকে পরীক্ষা করে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মনিরুলকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে বলেও চিকিৎসক জানিয়েছেন। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।এদিকে স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছেন মনিরুলের স্ত্রী মোসাঃ রাসিদা বেগম। তিনি বলেন, স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমার বাড়িঘর পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছি। আমার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। এখন তাদের নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। স্বামীকে বাঁচাতে চাই, কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন,আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।স্থানীয় আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নারায়ণ চন্দ বলেন, “মনিরুলের পরিবারটি সত্যিই অসহায়। তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই। মনিরুলের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে হয়তো পরিবারটি এই কঠিন সময়ে কিছুটা স্বস্তি পাবে।এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোঃ ইজাজুল হক বলেন, “আমার বরাবর আবেদন করতে বলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি অনুদানের সুযোগ থাকলে আমি বিষয়টি দেখব।মনিরুল হাংয়ের পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসা, অন্যদিকে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন স্ত্রী রাসিদা বেগম।অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
একটি সহযোগিতার হাত হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে মনিরুলের জীবনের আলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ