স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জমানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির নামজারি (মিউটেশন) নিয়ে অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। জমির নামজারি করতে গিয়ে এক ভুক্তভোগীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বড় জোকা গ্রামের মো. কাসেম আলী, পিতা মো. জাকের আলী। প্রায় এক বছর আগে কাসেম আলীর জমির নামজারি করানোর কথা বলে একই গ্রামের মো. রানা মিয়া তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক মাস পর নামজারির কাগজ হাতে পাওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে জটিলতা দেখা দেয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকের আলী মৃত্যুকালে কাসেম আলীসহ তিন বোন ও এক ভাইকে রেখে যান। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে সংশ্লিষ্টদের জমিতে অংশ পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য অংশীদারদের সম্পৃক্ত না করে কাসেম আলীর স্ত্রী ও ছেলের নামে ১৮ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়। পরবর্তীতে অন্য অংশীদাররা ওই জমি রেজিস্ট্রি করতে বাধা দিলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে কাসেম আলীর পরিবার জানতে পারে বলে দাবি করেছে, বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানকে ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে ওই ১৮ শতাংশ জমি নামজারি করানো হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের এ অভিযোগ এবং নামজারি প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জমির নামজারির বিরুদ্ধে ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারী কারা, নামজারির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।স্থানীয়দের দাবি, জমির নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যেন কোনো দালালচক্রের হয়রানি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের শিকার না হন, সে জন্য বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমির প্রকৃত অংশীদারদের অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি। এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা মানুষের ভোগান্তি কমানো স্থানীয় সাধারণ ভূমি মালিকেরা দাবি করেন।

0 মন্তব্যসমূহ