লোড হচ্ছে...

কুমিল্লায় পুলিশের সমন্বিত অভিযানে কিশোর গ্যাং এর লিডার সহ একযোগে আটক ৩৬৭ জন ।


স্টাফ রিপোর্টার কুমিল্লা:বর্তমান সময়ে উঠতি বয়সী কিশোরা মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেল মহড়া থেকে শুরু করে খুনের মতো নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। কুমিল্লা জেলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে এদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে পড়েছিল।০২/১০/২৬ মাগরিবের পর হতে গভীররাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম, এর নির্দেশে এবং সরাসরি অংশগ্রহণে কুমিল্লা জেলার কিশোর গ্যাং বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সেই সকল স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে পুলিশ সুপার সহ পুলিশের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এই অভিযানে ৩৬৩ জন ও কিশোরগ্যাং লিডার ৪ জান সহ মোট ৩৬৭ কে জন্য আটক করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, জেলার পুলিশ সুপার জনাব আনিসুজ্জামান পিপিএম এর কঠোর দিক-নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে পুরো কুমিল্লা জেলা জুড়ে পুলিশ ও ডিবি'র চিরুনি অভিযান চলছে। এই সাঁড়াশি অভিযানে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক ২০০০-এর অধিক কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকা বাকিদের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পুনর্বাসনের স্বার্থে স্ব-স্ব অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডাররা আত্মগোপনে চলে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর দুটি কিশোর গ্যাং—‘টিম RAW’ এবং ‘Crime Setup’-এর মূল নেতৃত্ব দানকারী ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় কুখ্যাত আসামিরা রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:*১. কুখ্যাত গ্যাং RAW’ এর মূল চালিকাশক্তি: ইমরান হোসেন রতন (১৯): পিতা- মৃত আবুল কাশেম। তার বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। সাইফুল ইসলাম (২০): পিতা- আক্তার হোসেন মোল্লা। তা বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।২. ভয়ঙ্কর গ্যাং ‘Crime Setup’ এর শীর্ষ নেতা:*• মোঃ সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪): পিতা- আব্দুল করিম। তার বিরুদ্ধে পূর্বের ১টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪): পিতা- নাসির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধেও ১টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিতকারী কোনো গ্যাং বা গডফাদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই সাঁড়াশি অভিযান জেলা থেকে কিশোর গ্যাং কালচার সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন যে এ বিষয়ে কোন তদবির যে করবে তার নামও প্রকাশ করা হবে। তিনি সন্তানদের খোঁজখবর রাখতে এবং তারা কার সাথে মিশছে সে বিষয়ে সচেতন হতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকল সম্মানিত অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ