সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, স্টাফ রিপোর্টারঃ Smtv Media কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।
আজ ১৭ ই মার্চ মঙ্গলবার, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ও বিধানসভা ভোটের প্রচারকে সামনে রেখে ১৬ই মার্চ সোমবার ঠিক বিকেল তিনটায়, কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এক মহা মিছিল ও সভা করলেন।এই মহা মিছিলে পা মেলান, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মহানগরী ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সায়নী ঘোষ, বিধায়িকা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক অতীন ঘোষ, বিধায়ক দেবাশীষ কুমার, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, স্বরূপ বিশ্বাস, কুনাল ঘোষ, অঞ্জন পাল, কাঞ্চন মল্লিক, সোহম সহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও কাউন্সিলরগণ। প্রায় কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী এই মহা মিছিলে যোগ দেন, বহুকর্মী বাইক র্যালি করে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শয়ে শয়ে তৃণমূল কর্মীরা মিছিলের মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন, প্রত্যেকের হাতেই ছিল রান্নার গ্যাসের প্লাকার, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবেশ করার অনেক আগে থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে রান্নার গ্যাসের বিরুদ্ধে এবং হুংকার দিতে থাকেন। দলনেত্রী পৌঁছানোর সাথে সাথে মিছিল শুরু হয় এবং গর্জে উঠে মহা মিছিল, একটাই দাবী অবিলম্বে রান্নার গ্যাসের মূল্য কমাতে হবে, সাধারণ মানুষ কেন হয়রানি হচ্ছে তার জবাব দিতে হবে, তারই প্রতিবাদে এই মহা মিছিল,
রান্নার গ্যাসের আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের কেন্দ্রের হটকারিতা আমরা মেনে নেবো না।। বাংলায় যতদিন তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে এই প্রতিবাদ করবে। প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে, আমরা সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকি। মিছিল লেলিন সরণী হয়ে ধর্মতলা ডরিনা ক্রসিংয়ের সভা মঞ্চে পৌঁছালে , দলনেত্রী মঞ্চে উঠার সাথে সাথে জয় বাংলা বলে চেঁচে উঠেন তৃণমূল কর্মীরা, এবং বলেন ২০২৬-এ আবার বাংলা, বাংলায় দিদিকে দেখতে চাই, আমরা তোমার পাশে আছি এই শ্লোগানে ভরিয়ে মূল্য মঞ্চের সামনে। মঞ্চে উঠে তীব্রভাবে আক্রমণ করলেন বিজেপি দালালদের ও বিজেপি কর্মীদের। বলেন যাহা কিছু ঘটছে সব বিজেপির দালালরা করছে, না হলে ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন মধ্যরাতে তাণ্ডব চালিয়ে দিল কিভাবে, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কমিশনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুললেন রাত সাড়ে বারোটায় কেন নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তাই নয়, আমার বাড়ি আক্রমণেরও হুমকি দিয়েছেন, তিনি বলেন বুকের পাটা থাকলে করে দেখাক, সব কিছুতেই লড়ে যাবো, তৃণমূল রা ভয় পায় না, আমরাও তৈরি আছি।, এইভাবে একদিকে যেমন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সভা কাঁপিয়ে তুললেন অন্যদিকে বিধানসভা ভোটের প্রচার শুরু করে দিলেন এখান থেকেই।
ধর্মতলা সভা মঞ্চ থেকেই গ্যাসের সমস্যা, জনগণের হয়রানি, ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন, এবং অফিসারদের বদলি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন। তিনি বারবার বলেন যতই যা করুক কেউ প্ররোচনায় কান দেবেন না, শান্তিপূর্ণ ভোট হোক দিল্লিটা বুঝে নেবো। আমরা দুর্বল নয়, অনেক পথ পেরিয়ে এখানে এসেছি, আপনারা বিশ্বাস রাখুন ২০২৬ শে আবার বাংলা জিতবে, আপনারা পাশে আছেন তো, আর তার সাথে সাথে বাংলা থেকে বিজেপি বিদায় নেবে, আমরা জানতে পেরেছি বিজেপি বাইরে থেকে বহু লোক ঢুকাচ্ছে, কিন্তু তাতে কোন লাভ হবেনা, আমরাও তৈরি আছি, ধরার জন্য, এবং নজর রাখার জন্য, দলের কর্মীদের বার্তা দিলেন যে যার এলাকায় সজাগ থাকুন, বিজেপির দালারা কিছু করতে না পারে, এর সাথে সাথে তিনি জানিয়ে দেন এস আই আর এ যাদের নাম বাদ যাবে, তাহাদের কি আমাদের তরফ থেকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে,
আমরা ধিক্কার জানাই কমিশনারকে যিনি বিজেপির দালালি করছেন, দালালদের কথা শুনে অফিসারদের বদলি করছেন, ভাবি রাজ্যের মুখ্য সচিব ও সশস্ত্র সচিব কে এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার কে সরিয়ে দিলেন নিন্দনীয় ঘটনা, যেভাবে একজন মহিলা মুখ্য সচিব নন্দিনীকে সরিয়ে দিলেন একজন আইএএস, একটা মহিলাকে অপমান করলেন। আমি মঞ্চ থেকে একটা কথাই বলতে চাই, যতই বদলি করুন, আর যারাই আসুক, তারা আমার হয়েই কাজ করবে, বিনাশ কালে যে বুদ্ধিনাশ হয় সেটা আরো একবার প্রমাণ করলেন। আর একটা কথা জেনে রাখুন সব বদলে গেলেও রাজ্য সরকার বদলাবে না জোর গলায় বলে গেলাম।। বাংলায় আবার তৃণমূল আসছে। আর সকল খেটে খাওয়া শ্রমিক ও কৃষক ভাইদের বলবো, এমনকি যারা ভিনদেশ থেকে এসে উপস্থিত হয়েছেন, তাহাদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা ভয় পাবেন না, আমি আছি বুঝে নেবো। বাংলায় গুন্ডাদের ঠাঁই নাই, এটা রবীন্দ্রনাথের বাংলা, স্বামীজীর বাংলা, ক্ষুদিরামের বাংলা, নেতাজীর বাংলা এই বাংলায় অন্য কারো ঠাঁই হবে না, যতই যাই করুক বাংলায় তৃণমূল আছে থাকবে। মা মাটি সরকার সকল সাধারণ মানুষের পাশে আছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।




0 মন্তব্যসমূহ