লোড হচ্ছে...

দিনাজপুরে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে শিশু বিকাশে নতুন দিগন্ত, কাহারোলে এমপি মনজুরুল ইসলামের পরিদর্শন।


মোজাম্মেল হক :বীরগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ Smtv Media বীরগঞ্জ দিনাজপুর।




দিনাজপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-এর যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬৯ হাজার ৭৭৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৬২ হাজার ৭৯৭ শিক্ষার্থী নিয়মিত এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় কাহারোল উপজেলায় আয়োজিত পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় ইএসডিও’র প্রোগ্রামার শাহ মো. আমিনুল হক-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মোকলেদা খাতুন মীম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতেহাক আহমেদ, কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিমুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক শামীম আলীসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা।



কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন দুই পিস করে ৬০ গ্রাম ওজনের বনরুটি, ৪ দিন একটি করে সিদ্ধ ডিম এবং ১ দিন একটি করে কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলার ৫টি উপজেলায় ২১০ জন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, যারা নিয়মিত ডিম ও কলা সরবরাহ করছেন। এতে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবার ও সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন নারী উদ্যোক্তা সপ্তাহে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম ও কলার মতো পুষ্টিকর খাদ্য শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশ ও শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ছে, ঝরে পড়া কমছে এবং সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহও বাড়ছে। কাহারোল উপজেলায় বর্তমানে ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৫৯৬ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে সপ্তাহে ৫ দিন বনরুটি, ৪ দিন সিদ্ধ ডিম ও ১ দিন কলা সরবরাহ করা হয়। উপজেলায় ৪৭ জন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা এই সরবরাহ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও আলোকিত প্রজন্ম গঠনে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর।স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনেরও পথ তৈরি করছে। দিনাজপুর জেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি শিশু বিকাশে এখন এক নতুন আশার নাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নানা পেশার মানুষ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ