লোড হচ্ছে...

রাসিক মেয়র পদে বিএনপির ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ প্রার্থী!


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয়জনের প্রচারণা, নগর রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনাস্টাফ রিপোর্টার : একজন নয়, দুইজন নয়—তিন-চারজনও নয়; একসঙ্গে ছয়জন। আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন অনুসারীরা। ফলে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে।নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে একই রাজনৈতিক দল থেকে ছয়জনের নাম সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি থেকে চারজন নেতার নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার পর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির ১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নগর বিএনপির নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে পরবর্তী রাসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী কে হবেন—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচনায় যুক্ত হতে থাকে নতুন নতুন নাম।বর্তমানে মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন—মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সহ-সভাপতি ওলিউল হক রানা এবং সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট।এর বাইরে সাবেক রাসিক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নামও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবিকে ঘিরেও তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনের নামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা দৃশ্যমান হয়েছে। অনুসারীদের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য, পোস্ট ও প্রচারণায় স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোও বেশ সরব হয়ে উঠেছে।সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে তিন সম্ভাব্য প্রার্থী
এদিকে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।চলতি বছরের ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক রাসিক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফআইডিসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।এর আগে জুন মাসে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।এছাড়া গত ১৪ মার্চ ২০২৬ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটনকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।ফলে একই রাজনৈতিক দলের আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁদের নাম আলোচনায় আসায় নগর রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।একাধিক প্রার্থী—ইতিবাচক নাকি চ্যালেঞ্জ?
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে একাধিক নেতার মেয়র পদে আগ্রহ প্রকাশ করা স্বাভাবিক। তাঁদের মতে, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেই পারেন।তবে সিনিয়র নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত একই দলের একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক সমন্বয়কে কঠিন করে তুলতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে নির্বাচনের মাঠে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, অনুসারীদের ভূমিকা এবং ভোটারদের মধ্যে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরাডাবল হ্যাটট্রিক’ এখন নগর রাজনীতির আলোচনায়রাজশাহী মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে একই দল থেকে ছয়জন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। কে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাবেন, কে স্বতন্ত্রভাবে মাঠে থাকবেন কিংবা শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী দৌড়ে থাকবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।তবে এখন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয়জনকে ঘিরে যে প্রচারণা চলছে, তাতে আসন্ন রাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে নগর রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত ছয়জনের এই তালিকা কতটা বহাল থাকে, আর কার ভাগ্যে জোটে নগর পিতার আসনের টিকিট—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ