স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুরমহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, কল্যাণ ও দুঃসময়ে পাশে থাকার ক্ষেত্রে চাঁদপুরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ওসমান গনি পাটোয়ারীর ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।তাঁদের দাবি, ওসমান গনি পাটোয়ারী যতবার চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ততবারই মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা সহযোগিতার জন্য তাঁর কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন—এমন ঘটনা তাঁদের জানা নেই। বরং বিপদগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।অসচ্ছল ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কবর পাকা করাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।তাঁদের ভাষায়, “জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে একজন আপন অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন।”রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সম্মান করাই ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মুক্তিযোদ্ধাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার এই মানসিকতার কারণে চাঁদপুরের অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কাছে ওসমান গনি পাটোয়ারীর নামটি আজও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
একাত্তরের বীর সন্তানদের ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়। তাঁদের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতারও বহিঃপ্রকাশ।চাঁদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তাই ওসমান গনি পাটোয়ারীর পরিচয় শুধু একজন সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নয়—একজন আপনজন, সহযোগী ও মানবিক অভিভাবক হিসেবেও স্মরণীয়।

0 মন্তব্যসমূহ