নিজস্ব প্রতিবেদকঃ Smtv Media রাজশাহী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর পবা উপজেলার বায়া সরকারি শিশু সদন মাঠে স্থানীয়ভাবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু দশজন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময়ে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের এটা একটি অংশ। এই কার্ড সংসারের নারীর অংশগ্রহন ও ক্ষমতায়ন অনেকটাই নিশ্চিত করবে। শুধু ফ্যামেলি কার্ড নয় কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি সর্বদা জনগণের পাশে ছিলো, আছে এবং থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
এছাড়াও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম, আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ, মোহনপুর উপজেলার বিএনপি সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, জেলা মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট সামসাদ বেগম মিতালীসহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও কার্ড প্রাপ্ত নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের মুহূর্তে একটি ডিজিটাল ক্লিকের মাধ্যমে দেশের ২০টি ইউনিটে একযোগে ১৪ হাজার ৩৭০ জন নারী সুবিধাভোগীর মোবাইলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভাতার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে মুহূর্তেই ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তিনটি গ্রাম, বেড়পাড়া, দবিরমোল্লা পাড়া ও দরগা পাড়ায় ৬৬৯টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উপকারভোগীদের মধ্যে পবা উপজেলার বাসিন্দা বিলকিস বানু ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়ে বলেন, “এই কার্ড তাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এখন তারা নিয়মিত সহায়তা পাবে। এতে তাদের সংসার চালাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।” একই এলাকার ফিরোজা বেগম বলেন, “আগে অনেক কষ্ট ছিলো, এখন এই সহায়তায় আমাদের জীবনে কিছুটা স্থিতি ফিরবে বলে আশা করেন তিনি।”স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এই পাইলটিং কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দেশের আরও বেশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।




0 মন্তব্যসমূহ