নিজস্ব প্রতিবেদক Smtv Media মানিকগঞ্জ।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ভূমি সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, চলমান দেওয়ানী বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্যভাবে খারিজ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “দেওয়ানী মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে খারিজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার।”জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ সাটুরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, মানিকগঞ্জে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১৯৭/২০২১ চলমান রয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ দাবি করেন, সাটুরিয়া উপজেলার খল্লি ধানকোড়া মৌজার এস.এ ১৩ খতিয়ানভুক্ত এস.এ ৩৮০ ও ৩৮১ দাগের মোট ৪১ শতাংশ জমিতে তাদের বৈধ খরিদসূত্রে মালিকানা রয়েছে। পরবর্তীতে জমিগুলো আর.এস ৭৪৩ খতিয়ানে সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাসির উদ্দিন ও শাসির উদ্দিন তাদের অংশীয় ২০.৫০ শতাংশ জমি ভোগদখল করতে থাকেন। পরবর্তীতে তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সাটুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ১৪৬৯ নং এওয়াজনামা দলিলের মাধ্যমে বাদীদের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়।অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের পিতা মৃত হাতেম আলী চৌধুরীর নামে ১৯৯২ সালের ৪৭৬২ নং এবং ১৯৯৩ সালের ১৫৮৮ ও ৩৬৭০ নং দলিলের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এসব দলিলের বিক্রেতা লাল মিয়া ও মুস্তি শেখের উক্ত জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা বা স্বত্ব ছিল না। ফলে দলিলগুলো “ফলবিহীন ও অকার্যকর” ঘোষণা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।এ বিষয়ে দখলদার লাল মিয়া ওরফে কেটু বলেন, এই জমির কোন কাগজপত্রে সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার ছেলে আঃ সালাম বলেন, কাগজপত্রে আমাদের নাম না থাকায় আমরা জীবনে কোনদিন খাজনা দেই নাই । সব জানা সত্ত্বেও তারা জায়গা কিনেছে । এখন তারা কি করছে না করছে আমরা জানি না। মামলায় বাদী হিসেবে রয়েছেন মোঃ আব্দুল গণি, নোয়াব আলী, মোঃ সামসুল হক, সোরহাব হোসেন ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অপরদিকে বিবাদী হিসেবে রয়েছেন আব্দুল হালিম, মামুন হোসেন, সালমা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। আদালতে দায়েরকৃত মামলায় বাদীপক্ষ তফশিলি জমিতে তাদের স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি বিবাদীপক্ষের দলিলগুলো অকার্যকর ঘোষণা চেয়েছেন। মামলার তায়দাদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে বিতর্কিত জমির খারিজ অনুমোদন দেওয়া অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। তারা দাবি করেন, ভূমি সহকারী শহিদুল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি নীতির বহির্ভূত কোন কাজ করি না ।ভুক্তভোগী ও প্রকৃত মালিকপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা ও প্রমুখ।

0 মন্তব্যসমূহ